বর্ষাকালে কোন সবজি চাষ লাভজনক
বর্ষাকালে কোন সবজি চাষ লাভজনক—এই প্রশ্নটি বাংলাদেশের অনেক কৃষক, নতুন কৃষি উদ্যোক্তা এবং বাড়ির আঙিনায় সবজি চাষে আগ্রহীদের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বর্ষা মৌসুমে পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত ও অনুকূল তাপমাত্রার কারণে কিছু সবজি খুব ভালো ফলন দেয়। তবে সঠিক জাত নির্বাচন, জমি প্রস্তুতি, নিষ্কাশন ব্যবস্থা এবং রোগ-পোকা ব্যবস্থাপনা না জানলে কাঙ্ক্ষিত লাভ পাওয়া কঠিন হতে পারে।
এই গাইডে বাংলাদেশের আবহাওয়া ও কৃষি বাস্তবতার ভিত্তিতে এমন সব লাভজনক বর্ষাকালীন সবজি, চাষের পদ্ধতি, পরিচর্যা, সার ব্যবস্থাপনা, রোগ দমন এবং সম্ভাব্য লাভ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে।
সূচিপত্র
- বর্ষাকালের সবজি চাষের পরিচিতি
- কেন বর্ষাকালে সবজি চাষ গুরুত্বপূর্ণ
- বর্ষাকালীন সবজি চাষের উপকারিতা
- কারা এই চাষ করতে পারেন
- সঠিক সময় ও মৌসুম
- লাভজনক সবজির তালিকা
- পরবর্তী অংশে: জমি প্রস্তুতি, ধাপে ধাপে চাষ, সার, পরিচর্যা ও রোগ ব্যবস্থাপনা
বর্ষাকালের সবজি চাষের বিস্তারিত পরিচিতি
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ, যেখানে জুন থেকে অক্টোবর পর্যন্ত বর্ষা মৌসুম বিরাজ করে। এ সময় প্রচুর বৃষ্টিপাতের কারণে মাটিতে পর্যাপ্ত আর্দ্রতা থাকে, যা অনেক সবজি ফসলের বৃদ্ধির জন্য উপযোগী পরিবেশ তৈরি করে।
তবে সব ধরনের সবজি বর্ষাকালে সমান ভালো ফলন দেয় না। কিছু ফসল অতিরিক্ত পানি সহ্য করতে পারে, আবার কিছু ফসল দ্রুত নষ্ট হয়ে যায়। তাই লাভজনক উৎপাদনের জন্য এমন সবজি নির্বাচন করতে হবে যেগুলো বর্ষার আবহাওয়ায় ভালো জন্মায় এবং বাজারে নিয়মিত চাহিদা রয়েছে।
বাংলাদেশে বর্ষাকালে যেসব সবজি তুলনামূলকভাবে বেশি লাভজনক—
- ঢেঁড়স
- লাউ
- করলা
- ঝিঙা
- চিচিঙ্গা
- পটল
- কচু
- পুঁইশাক
- শসা (উঁচু জমিতে)
- বরবটি
- মিষ্টিকুমড়া
- চালকুমড়া
কেন বর্ষাকালে সবজি চাষ গুরুত্বপূর্ণ
বর্ষাকাল কৃষকদের জন্য শুধু ধানের মৌসুম নয়; এটি সবজি উৎপাদনেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়।
কারণগুলো হলো—
- বৃষ্টির পানি সেচের খরচ কমিয়ে দেয়।
- মাটির আর্দ্রতা দীর্ঘ সময় বজায় থাকে।
- অনেক লতানো সবজির দ্রুত বৃদ্ধি ঘটে।
- বাজারে মৌসুমি সবজির চাহিদা থাকে।
- স্বল্প সময়ে নগদ অর্থ আয়ের সুযোগ সৃষ্টি হয়।
- একই জমিতে একাধিক ফসল উৎপাদনের সুযোগ থাকে।
সঠিক পরিকল্পনা করলে বর্ষাকালের সবজি চাষ ক্ষুদ্র ও মাঝারি কৃষকদের জন্য লাভজনক কৃষি ব্যবসায় পরিণত হতে পারে।
বর্ষাকালীন সবজি চাষের উপকারিতা
১. উৎপাদন খরচ তুলনামূলক কম
বৃষ্টির কারণে সেচ ব্যয় কম হয় এবং অনেক ক্ষেত্রে অতিরিক্ত পানি সরবরাহের প্রয়োজন পড়ে না।
২. দ্রুত বৃদ্ধি
আর্দ্র পরিবেশে অনেক সবজির বৃদ্ধি দ্রুত হয়, ফলে কম সময়ে ফসল পাওয়া যায়।
৩. বাজারে ভালো দাম
মৌসুমের শুরুতে বা শেষে উৎপাদিত মানসম্মত সবজি অনেক সময় বেশি দামে বিক্রি করা যায়।
৪. পুষ্টির উৎস
পরিবারের পুষ্টি চাহিদা পূরণের পাশাপাশি অতিরিক্ত সবজি বিক্রি করে আয় করা যায়।
৫. কর্মসংস্থান সৃষ্টি
পারিবারিক কৃষি, বাণিজ্যিক কৃষি এবং গ্রামীণ উদ্যোক্তাদের জন্য এটি আয়ের একটি কার্যকর উৎস।
কারা বর্ষাকালে সবজি চাষ করবেন?
নিম্নোক্ত ব্যক্তিরা সহজেই এই চাষ শুরু করতে পারেন—
- ক্ষুদ্র কৃষক
- বাণিজ্যিক কৃষক
- কৃষি উদ্যোক্তা
- শিক্ষিত তরুণ উদ্যোক্তা
- বাড়ির ছাদ বা আঙিনায় চাষে আগ্রহী ব্যক্তি
- নারীদের পারিবারিক কৃষি উদ্যোগ
নতুনরা ছোট পরিসরে শুরু করে অভিজ্ঞতা অর্জনের পর বড় আকারে সম্প্রসারণ করতে পারেন।
সঠিক সময় ও মৌসুম
বাংলাদেশে সাধারণত—
| সবজি | বপনের উপযুক্ত সময় |
|---|---|
| ঢেঁড়স | মার্চ–আগস্ট |
| লাউ | এপ্রিল–আগস্ট |
| করলা | মার্চ–জুলাই |
| ঝিঙা | এপ্রিল–জুলাই |
| চিচিঙ্গা | এপ্রিল–জুলাই |
| বরবটি | মে–আগস্ট |
| পুঁইশাক | এপ্রিল–সেপ্টেম্বর |
| কচু | মার্চ–জুন |
| মিষ্টিকুমড়া | এপ্রিল–জুলাই |
| চালকুমড়া | এপ্রিল–জুলাই |
| শসা | এপ্রিল–জুন (উঁচু জমি) |
জমি নির্বাচনের পরামর্শ
- পানি যেন দীর্ঘ সময় জমে না থাকে।
- উঁচু বা মাঝারি উঁচু জমি নির্বাচন করুন।
- পানি নিষ্কাশনের জন্য নালা রাখুন।
- পর্যাপ্ত সূর্যালোক নিশ্চিত করুন।
- জৈব পদার্থসমৃদ্ধ দোআঁশ বা বেলে দোআঁশ মাটি সবচেয়ে উপযোগী।

বর্ষাকালে সবচেয়ে লাভজনক ১০টি সবজি (সংক্ষেপে)
| সবজি | লাভের সম্ভাবনা | বাজার চাহিদা |
| ঢেঁড়স | ★★★★★ | খুব বেশি |
| লাউ | ★★★★★ | খুব বেশি |
| করলা | ★★★★☆ | বেশি |
| ঝিঙা | ★★★★☆ | বেশি |
| চিচিঙ্গা | ★★★★☆ | বেশি |
| পুঁইশাক | ★★★★☆ | বেশি |
| বরবটি | ★★★★☆ | বেশি |
| কচু | ★★★★☆ | ভালো |
| মিষ্টিকুমড়া | ★★★★☆ | ভালো |
| চালকুমড়া | ★★★★☆ | ভালো |
প্রয়োজনীয় উপকরণ
বর্ষাকালে সফল সবজি চাষের জন্য শুরু থেকেই সঠিক উপকরণ প্রস্তুত রাখা জরুরি। এতে উৎপাদন খরচ নিয়ন্ত্রণে থাকে এবং ফলনও ভালো হয়।
- উন্নত মানের ও রোগমুক্ত বীজ
- পচা গোবর বা জৈব সার
- ভার্মি কম্পোস্ট
- ইউরিয়া, টিএসপি, এমওপি (মাটির পরীক্ষার ভিত্তিতে)
- বেড তৈরির কোদাল ও কৃষি যন্ত্রপাতি
- বাঁশ ও দড়ি (লতানো সবজির জন্য)
- মালচিং উপকরণ (প্রয়োজনে)
- সেচের পাইপ বা স্প্রেয়ার
- আগাছা পরিষ্কারের সরঞ্জাম
- ফেরোমন ফাঁদ ও হলুদ স্টিকি ট্র্যাপ
- অনুমোদিত বালাইনাশক (প্রয়োজন হলে)
ধাপে ধাপে সম্পূর্ণ চাষ পদ্ধতি

১: জমি নির্বাচন
বর্ষাকালে জমি নির্বাচন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
- উঁচু বা মাঝারি উঁচু জমি বেছে নিন।
- যেখানে দীর্ঘ সময় পানি জমে না।
- প্রতিদিন কমপক্ষে ৬–৮ ঘণ্টা সূর্যালোক পড়ে এমন স্থান নির্বাচন করুন।
২: জমি প্রস্তুত
- জমি ৩–৪ বার চাষ দিন।
- আগাছা পরিষ্কার করুন।
- প্রতি শতকে ৪০–৫০ কেজি পচা গোবর মিশিয়ে দিন।
- পানি নিষ্কাশনের জন্য নালা তৈরি করুন।
- উঁচু বেড তৈরি করলে বর্ষায় শিকড় পচার ঝুঁকি কমে।
৩: উন্নত জাত নির্বাচন
নিজ এলাকার উপযোগী এবং রোগ সহনশীল জাত নির্বাচন করুন।
উদাহরণ:
- ঢেঁড়স
- লাউ
- করলা
- ঝিঙা
- বরবটি
- পুঁইশাক
- কচু
স্থানীয় কৃষি অফিসের পরামর্শ অনুযায়ী জাত নির্বাচন করলে ফলন ভালো হয়।
৪: বীজ বপন
- নির্ধারিত দূরত্ব বজায় রাখুন।
- অতিরিক্ত ঘনভাবে বপন করবেন না।
- লতানো সবজির জন্য মাচার ব্যবস্থা করুন।
- বীজ শোধন করে লাগালে রোগের ঝুঁকি কমে।
৫: অঙ্কুরোদগমের পর পরিচর্যা
- দুর্বল চারা তুলে ফেলুন।
- প্রয়োজনে পুনরায় চারা লাগান।
- আগাছা পরিষ্কার রাখুন।
- পানি জমতে দেবেন না।
৬: মাচা তৈরি
লাউ, করলা, ঝিঙা, চিচিঙ্গা, শসা ও চালকুমড়ার জন্য শক্ত মাচা তৈরি করুন।
সুবিধা:
- ফল মাটিতে লাগে না।
- রোগ কম হয়।
- ফলের মান ভালো হয়।
- সংগ্রহ সহজ হয়।
৭: ফুল ও ফল আসার সময়
এই সময় গাছের পুষ্টির চাহিদা বেড়ে যায়।
- সুষম সার দিন।
- রোগ নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করুন।
- অতিরিক্ত পানি জমতে দেবেন না।
৮: ফসল সংগ্রহ
- পরিপক্ব হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সংগ্রহ করুন।
- অতিরিক্ত দেরি করলে বাজারমূল্য কমে।
- সকাল বা বিকেলে সংগ্রহ করলে সবজির সতেজতা বেশি থাকে।
পরিচর্যা

ভালো ফলনের জন্য নিয়মিত পরিচর্যা অপরিহার্য।
আগাছা নিয়ন্ত্রণ
১৫–২০ দিন পরপর আগাছা পরিষ্কার করুন।
মাটি আলগা করা
শিকড়ে বাতাস চলাচল নিশ্চিত হয়।
অতিরিক্ত ডাল ছাঁটাই
রোগ কমে এবং ফলন বাড়ে।
পানি নিষ্কাশন
বর্ষাকালে জমিতে পানি জমে থাকলে দ্রুত বের করে দিতে হবে।
নিয়মিত পর্যবেক্ষণ
প্রতিদিন গাছ পর্যবেক্ষণ করলে রোগ-পোকা দ্রুত শনাক্ত করা যায়।
সার ব্যবস্থাপনা
সুষম সার ব্যবহারে ফলন উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ে।
| সারের নাম | ব্যবহার |
|---|---|
| পচা গোবর | জমি তৈরির সময় |
| ভার্মি কম্পোস্ট | মাটির উর্বরতা বৃদ্ধি |
| ইউরিয়া | কিস্তিতে প্রয়োগ |
| টিএসপি | জমি তৈরির সময় |
| এমওপি | ফুল ও ফল বৃদ্ধিতে সহায়ক |
| জিপসাম | প্রয়োজনে |
| জিংক | মাটির ঘাটতি থাকলে |
পরামর্শ: মাটির পরীক্ষার ফল অনুযায়ী সার প্রয়োগ করলে খরচ কমে এবং উৎপাদন বাড়ে।
সেচ ব্যবস্থাপনা
বর্ষায় অতিরিক্ত সেচ সাধারণত প্রয়োজন হয় না।
তবে—
- দীর্ঘ সময় বৃষ্টি না হলে হালকা সেচ দিন।
- পানি জমতে দেবেন না।
- ড্রেন পরিষ্কার রাখুন।
- সকালে সেচ দেওয়া উত্তম।
- সন্ধ্যায় সেচ দিলে ছত্রাকের ঝুঁকি বাড়তে পারে।
রোগ ও পোকামাকড়

ছত্রাকজনিত রোগ
লক্ষণ
- পাতায় বাদামী দাগ
- পাতা শুকিয়ে যাওয়া
- কান্ড পচা
কারণ
- অতিরিক্ত আর্দ্রতা
- পানি জমে থাকা
- অপর্যাপ্ত বাতাস চলাচল
প্রতিকার
- আক্রান্ত অংশ অপসারণ করুন।
- পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করুন।
- প্রয়োজনে অনুমোদিত ছত্রাকনাশক ব্যবহার করুন।
ফল ছিদ্রকারী পোকা
লক্ষণ
- ফলে ছোট ছিদ্র
- ফল পচে যাওয়া
- বাজারমূল্য কমে যাওয়া
কারণ
- পোকার আক্রমণ
প্রতিকার
- ফেরোমন ফাঁদ ব্যবহার করুন।
- আক্রান্ত ফল নষ্ট করুন।
- নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করুন।
জাব পোকা
লক্ষণ
- কচি পাতা কুঁকড়ে যায়।
- বৃদ্ধি কমে যায়।
কারণ
রস শোষণকারী পোকা।
প্রতিকার
- হলুদ স্টিকি ট্র্যাপ ব্যবহার করুন।
- উপকারী পোকা সংরক্ষণ করুন।
- প্রয়োজন হলে কৃষি বিভাগের অনুমোদিত কীটনাশক ব্যবহার করুন।
মিলডিউ
লক্ষণ
- পাতায় সাদা গুঁড়ার মতো আস্তরণ
- পাতা শুকিয়ে যাওয়া
কারণ
আর্দ্র পরিবেশ ও ছত্রাক সংক্রমণ।
প্রতিকার
- আক্রান্ত পাতা সরিয়ে ফেলুন।
- গাছের দূরত্ব ঠিক রাখুন।
- প্রয়োজনে অনুমোদিত ছত্রাকনাশক ব্যবহার করুন।
শিকড় পচা
লক্ষণ
- গাছ হঠাৎ ঢলে পড়ে
- শিকড় কালো হয়ে যায়
কারণ
দীর্ঘ সময় পানি জমে থাকা।
প্রতিকার
- উঁচু বেডে চাষ করুন।
- দ্রুত পানি নিষ্কাশন করুন।
- আক্রান্ত গাছ অপসারণ করুন।
সাধারণ ভুল ও সমাধান
বর্ষাকালে সবজি চাষে কিছু সাধারণ ভুলের কারণে ফলন কমে যায় এবং উৎপাদন খরচ বেড়ে যায়। নিচের টেবিলে এসব ভুল ও সমাধান তুলে ধরা হলো।
| সাধারণ ভুল | সম্ভাব্য সমস্যা | সমাধান |
|---|---|---|
| নিচু জমিতে চাষ | পানি জমে শিকড় পচে যায় | উঁচু বেড বা মাঝারি উঁচু জমি নির্বাচন করুন |
| অতিরিক্ত ঘন করে বীজ বপন | আলো-বাতাস কম পায়, রোগ বাড়ে | সঠিক দূরত্ব বজায় রাখুন |
| অতিরিক্ত ইউরিয়া ব্যবহার | পাতার বৃদ্ধি বেশি, ফলন কম | সুষম সার ব্যবহার করুন |
| পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না রাখা | ছত্রাক ও ব্যাকটেরিয়ার আক্রমণ | নালা তৈরি করে পানি বের করুন |
| নিয়মিত জমি পরিদর্শন না করা | রোগ-পোকা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে | সপ্তাহে অন্তত ২–৩ বার পর্যবেক্ষণ করুন |
| দেরিতে ফসল সংগ্রহ | বাজারমূল্য কমে যায় | উপযুক্ত সময়ে সংগ্রহ করুন |
| অপরিষ্কার কৃষি সরঞ্জাম ব্যবহার | রোগ ছড়াতে পারে | ব্যবহারের আগে ও পরে পরিষ্কার করুন |
বিশেষজ্ঞের পরামর্শ
- সবসময় প্রত্যয়িত উৎস থেকে উন্নতমানের বীজ সংগ্রহ করুন।
- একই জমিতে বারবার একই ফসল চাষ না করে ফসল পর্যায়ক্রম (Crop Rotation) অনুসরণ করুন।
- জমিতে পানি জমে থাকলে দ্রুত নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করুন।
- জৈব সার ব্যবহারে মাটির গুণাগুণ দীর্ঘমেয়াদে ভালো থাকে।
- রোগ বা পোকা দেখা দিলে শুরুতেই ব্যবস্থা নিন; দেরি করলে ক্ষতি বাড়তে পারে।
- কীটনাশক ব্যবহারের আগে কৃষি কর্মকর্তার পরামর্শ ও লেবেলের নির্দেশনা অনুসরণ করুন।
- স্থানীয় বাজারের চাহিদা বিবেচনা করে সবজির জাত নির্বাচন করলে লাভের সম্ভাবনা বাড়ে।
খরচ, উৎপাদন ও সম্ভাব্য লাভ (নমুনা হিসাব)
দ্রষ্টব্য: নিচের হিসাব একটি সাধারণ উদাহরণ। প্রকৃত খরচ, ফলন ও বাজারদর এলাকা, জাত, আবহাওয়া এবং ব্যবস্থাপনার ওপর নির্ভর করে পরিবর্তিত হতে পারে।
| বিষয় | আনুমানিক পরিমাণ (প্রতি বিঘা) |
| বীজ ও চারা | ৩,০০০–৬,০০০ টাকা |
| জমি প্রস্তুতি | ৬,০০০–১০,০০০ টাকা |
| জৈব ও রাসায়নিক সার | ৮,০০০–১৫,০০০ টাকা |
| শ্রমিক ও পরিচর্যা | ১২,০০০–২০,০০০ টাকা |
| রোগ-পোকা ব্যবস্থাপনা | ৩,০০০–৮,০০০ টাকা |
| অন্যান্য খরচ | ৩,০০০–৬,০০০ টাকা |
| মোট আনুমানিক খরচ | ৩৫,০০০–৬৫,০০০ টাকা |
| সম্ভাব্য মোট বিক্রয় | ৮০,০০০–১,৮০,০০০ টাকা |
| সম্ভাব্য নিট লাভ | ৪৫,০০০–১,১৫,০০০ টাকা |
প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ)
১. বর্ষাকালে সবচেয়ে লাভজনক সবজি কোনটি?
ঢেঁড়স, লাউ, করলা, ঝিঙা, পুঁইশাক, বরবটি ও চিচিঙ্গা সাধারণত লাভজনক হিসেবে বিবেচিত হয়।
২. বর্ষায় কোন জমিতে সবজি চাষ করা ভালো?
উঁচু বা মাঝারি উঁচু জমি সবচেয়ে উপযোগী, যেখানে পানি দীর্ঘ সময় জমে থাকে না।
৩. বর্ষাকালে কি সেচের প্রয়োজন হয়?
নিয়মিত বৃষ্টিপাত হলে সাধারণত কম সেচ লাগে। তবে দীর্ঘ সময় বৃষ্টি না হলে প্রয়োজন অনুযায়ী সেচ দিতে হবে।
৪. কোন সার বেশি কার্যকর?
মাটির পরীক্ষার ভিত্তিতে জৈব সার ও সুষম রাসায়নিক সার ব্যবহার সবচেয়ে ভালো ফল দেয়।
৫. বর্ষায় রোগ কেন বেশি হয়?
অতিরিক্ত আর্দ্রতা ও পানি জমে থাকার কারণে ছত্রাক ও ব্যাকটেরিয়াজনিত রোগের ঝুঁকি বেড়ে যায়।
৬. লতানো সবজিতে মাচা কেন দরকার?
মাচা ব্যবহার করলে গাছ আলো-বাতাস বেশি পায়, ফল মাটিতে লাগে না এবং রোগের ঝুঁকি কমে।
৭. নতুন কৃষক কি বর্ষাকালে সবজি চাষ শুরু করতে পারেন?
অবশ্যই। ছোট পরিসরে শুরু করে অভিজ্ঞতা অর্জনের পর ধীরে ধীরে বাণিজ্যিকভাবে সম্প্রসারণ করা যেতে পারে।
৮. জৈব সার ব্যবহার করলে কী সুবিধা?
মাটির উর্বরতা বৃদ্ধি, পানি ধারণক্ষমতা উন্নত হওয়া এবং দীর্ঘমেয়াদে টেকসই উৎপাদনে সহায়তা করে।
৯. ফসল সংগ্রহের সঠিক সময় কখন?
সবজি পরিপক্ব হওয়ার পরপরই সংগ্রহ করা উচিত, যাতে মান ও বাজারদর ভালো থাকে।
১০. কীভাবে লাভ বাড়ানো যায়?
উন্নত জাত নির্বাচন, সঠিক পরিচর্যা, সময়মতো রোগ-পোকা দমন, স্থানীয় বাজার বিশ্লেষণ এবং অপচয় কমানোর মাধ্যমে লাভ বাড়ানো সম্ভব।
উপসংহার

বাংলাদেশের আবহাওয়ায় বর্ষাকাল সবজি চাষের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মৌসুম। সঠিক জমি নির্বাচন, উপযুক্ত জাত, উন্নত চাষাবাদ পদ্ধতি, সুষম সার ব্যবস্থাপনা, কার্যকর পানি নিষ্কাশন এবং সময়মতো রোগ-পোকা দমন করলে বর্ষাকালে সবজি চাষ থেকে ভালো ফলন ও লাভ অর্জন করা সম্ভব। কৃষকদের উচিত স্থানীয় কৃষি অফিসের পরামর্শ গ্রহণ করে এলাকার উপযোগী জাত নির্বাচন করা এবং টেকসই কৃষি পদ্ধতি অনুসরণ করা।
Call To Action (CTA)
আপনি যদি বর্ষাকালে সবজি চাষ শুরু করতে চান, তাহলে ছোট পরিসরে পরিকল্পিতভাবে শুরু করুন এবং সঠিক কৃষি ব্যবস্থাপনা অনুসরণ করুন। এই গাইডটি উপকারী মনে হলে আপনার পরিচিত কৃষক, কৃষি উদ্যোক্তা বা আগ্রহী পাঠকদের সঙ্গে শেয়ার করুন। কৃষি বিষয়ক আরও নির্ভরযোগ্য তথ্য ও ব্যবহারিক পরামর্শ পেতে আমাদের ওয়েবসাইটের অন্যান্য কৃষি বিষয়ক নিবন্ধও পড়ুন।